• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে কমলগঞ্জে পর্যটকদের ঢল-কমলগঞ্জ বার্তা

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ / ১৫৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৪ মে, ২০২২

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, সিএনজি অটো বাস নিয়ে আসাপর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমিমৌলভীবাজারের

 

উপজেলার টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানেরস্মৃতিসৌধ, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়াপুঞ্জিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে যেন পা ফেলার ঠাই নেই। 

 

এদিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কাউন্টার থেকে জানা যায়, ঈদের দিন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানথেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে একলক্ষ পনেরো হাজার টাকার মতো বুধবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রায়দের লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। এখানে প্রাপ্ত বয়স্ক, ছাত্র ছাত্রী ছিল তবে বিদেশী পর্যটক নাই বললেইচলে। 

 

অন্যদিকে দেখা যায়, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াদৌস হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটিটীম সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পর্যটক নগরী কমলগঞ্জে প্রতিটি জায়গায় পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ঘুড়েথাকতে দেখা যায়।

       

জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, পদ্মকন্যানয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, ঝর্ণাধারা হামহাম জলপ্রপাত, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত মহানমুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসঐতিহ্যের বাহক বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্যরাজকান্দি বন, শমসেরনগর বিমানবন্দর, প্রাচীন ঐতিহ্যের বাহক লক্ষ্মীনারায়ণ দিঘী, ২শ বছরের প্রাচীনছয়চিরী দিঘী, শমসেরনগর বাঘীছড়া লেক, আলিনগর পদ্মলেক, মাগুরছড়া পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ড, ডবলছড়াখাসিয়া পুঞ্জি, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, অপরূপ শোভামণ্ডিত উঁচু নিচু পাহাড়বেস্টিত সারিবদ্ধ পদ্মছড়া চাবাগান, শিল্পকলা সমৃদ্ধ মনিপুরী, প্রকৃতির পূজারী খাসিয়া, গারো, সাঁওতাল, মুসলিম মনিপুরী, টিপরা গারোসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন ধারা সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ পর্যটকদের মন দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

       

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে এসব আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়েউঠেছিল। বুধবার (৫মে) দুপুরে মাধবপুর লেক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেখা মিলে দূরদূরান্ত থেকেআগত পর্যটনপ্রেমী ভ্রমণ পিয়াসুদের। এদের মধ্যে সপরিবারে কাপলদের ঘুরতে আসা পর্যটকদের উপস্থিতিছিল উল্লেখযোগ্য। ঈদের দিন মঙ্গলবারের চেয়ে বুধবার লোকজনের উপস্থিতি ছিল অন্যান্য বছরের তুলনায়বেশি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও পর্যটকরা ছুটে এসেছেন জীব বৈচিত্র্যের অপরূপ সমাহার ঘুড়ে দেখতে।

       

কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগান পদ্মছড়া নয়নাভিরাম মনোরম দৃশ্য পাহাড়ি টিলার উপর সবুজ চা বাগানেরসমারোহ, জাতীয় ফুল দূর্লভ বেগুনী শাপলার আধিপত্য, ঝলমল স্বচ্ছ পানি, ছায়া নিবিড় পরিবেশ, শাপলাশালুকের উপস্থিতি আনন্দের বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে। লেইকে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিললক্ষণীয়।

       

এছাড়া ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, শমসেরনগর বাগীছড়া লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধসহকমলগঞ্জের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। তবে, ঝর্ণাধারা হামহামজলপ্রপাতে পর্যটকদের ভিড় কিছুটা কম ছিল। ভিড় কম থাকার কারণ হিসেবে জানা যায়, পানি কম তাছাড়া, হামহাম জলপ্রপাতে ভ্রমণ করতে পুরো একদিনের প্রয়োজন। আর অনেকটা পথ হেঁটে যেতে হয়। কিন্তু ঈদেবিভিন্ন ইভেন্টে ভ্রমণপ্রেমী পর্যটকরা আসছেন হামহাম জলপ্রপাত দেখতে। তাদের মধ্যে তরুণতরুণীর সংখ্যাইবেশী।

        

ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়ায় জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে আসা রাজশাহী থেকে চাকুরীজীবী মামুন আহমদ, ঢাকানরসিংদীর গার্মেন্স কর্মী শীলা বেগম, শায়েস্তাগঞ্জের কলেজ ছাত্র শামীম আহমেদ, সুনামগঞ্জের দিরাই থেকেগৃহিণী মরিয়ম বেগম, সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রী রুপা শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়েরউম্মুল আরা সুইটি জানান, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ার বন একটি সমৃদ্ধ বন। প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য আরজীব বৈচিত্র্যে ভরপুর এই বনটি যে কেউ দেখলে মন জুড়িয়ে যাবে।

       

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, মাধবপুর লেকে লাউয়াছড়া  ঘুরতে আসা সিলেটমহিলা কলেজের ছাত্রী ইসরাত জেরিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এখানে এসে আমার খুবই ভালোলাগছে। আব্বু আম্মুর সাথে ঘুরতে এসেছি। বানরের লাফালাফি দেখেছি। বড় একটা ব্যাঙের ছাতা দেখেছি(ব্যাঙের ছাতার আদলে তৈরি মানবছাতা) এখানে এত গাছ, একসাথে এত গাছ এর আগে দেখিনি। তাছাড়াহামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ যাদুঘড় লেকের পানি কি বলবো সব মিলিয়ে অসাধারণ লাগছে। মন চাচ্ছে নাযেতে। যেকোন ছুটি পেলে আবার আসবো।

      

লাউয়াছড়া ইকো টুরিস্ট গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সহসাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া বলেন, ‘ঈদেরছুটিতে লাউয়াছড়াসহ সব পর্যটনকেন্দ্রে প্রচুর পর্যটকের আগমন হয়। ঈদের দিন বৃষ্টি থাকলেও পর্যটকের সংখ্যাচোখে পড়ার মতো ছিল। কিন্তু ঈদের পরের ৭দিন পর্যন্ত পর্যটক বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

        

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, আমি সকাল থেকেই কমলগঞ্জের সকলপর্যটক এরিয়া আমাদের থানা পুলিশের একটি টীমকে নিয়ে ঘুড়ে ঘুড়ে দেখছি। কারণ ঈদ আসলেই পর্যটকেরঢল নামে কমলগঞ্জে তাই নিরবিঘ্নে পর্যটকরা ঘুড়তে পারে সেইজন্য আমরা তাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যবেক্ষনকরছি। 

 

তিনি আরো বলেন, সকলের নিরাপত্তার জন্য কমলগঞ্জ থানা পুলিশ সবসময় সকলের পাশে আছে এবংথাকবে।

       

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, ঈদেরঅন্যান্য সময়ের তুলনায় পর্যটকের সমাগম অধিক ঘটেছে। তবে ঈদে পর্যটকদের উপস্থিতি সব সময়েই বেশিহয়ে থাকে। মেঘবৃষ্টি উপেক্ষা করেও আগত অত্যধিক পর্যটকের কারণে কিছুটা বিঘ্ন হওয়ার কথা স্বীকার করেতিনি আরও বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ করার জন্য পায়ে হাঁটার তিনটি ট্রেইল পথ রয়েছে।দর্শনার্থীরা এই ট্রেইল ঘুরেই চলে যান। এখানে গাইডরাও রয়েছে, এদের বলে দেওয়া হয়েছে যাতে পর্যটকরা এরবাইরে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাতে বন পরিবেশের ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে। পর্যটকদেরজন্য নিয়ন্ত্রিত ট্যুরিজমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কমলগঞ্জ থানা পুলিশ, পর্যটন পুলিশ সিএমসি সদস্যদেরনিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রকৃতি ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Web Service