-১৯৪৭ পরবর্তী আমাদের এই বঙ্গদেশে পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনামলে উল্লেখযোগ্য তিনটি জাতীয় নির্বাচন (যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ১৯৫৪, জাতীয় পরিষদ ১৯৬২ ও ১৯৬৫) অনুষ্ঠিত হয়। তখন অধুনালুপ্ত সিলেট-১৫ (কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল) আসনটি ১৯৫৪–১৯৬৯ পর্যন্ত মোট ১৫ বছর ডানপন্থীদের দখলে থাকলেও স্বাধীনতা-উত্তর থেকে আজ ৫৪ বছর পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দখলে স্থায়ীভাবে রয়েছে। সর্বপ্রথম আলহাজ্ব কেরামত আলী যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ১৯৫৪ ও জাতীয় পরিষদ নির্বাচন ১৯৬৫-এ যথাক্রমে কৃষক-শ্রমিক পার্টি ও কনভেনশন মুসলিম লীগ থেকে কপ জোটের প্রার্থী নবাব আলী সফদার খানের (১৯৬৫) সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এদিকে মো. মুহিবুর রহমান জাতীয় পরিষদ নির্বাচন ১৯৬২-এ কনভেনশন মুসলিম লীগ থেকে কাউন্সিল মুসলিম লীগের হেভিয়েট প্রার্থী, এটর্নি জেনারেল, ব্যারিস্টার আহমেদুর রহমান খোকনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে মো. মুহিবুর রহমান শক্তিশালী প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও গণপরিষদ নির্বাচন ১৯৭০ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯-এ যথাক্রমে মুসলিম লীগ ও বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট আলতাফুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক মো. ইলিয়াসের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। বিগত দুটি নির্বাচন নিয়ে গুরুতর বিতর্ক থাকলেও স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে মুহিবুর রহমানের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ স্থায়ীভাবে মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল) আসনে জায়গা করে নেয়। এবং ২০০৮ পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীরাও ন্যূনতম ভোট বাক্সে তুলতে ব্যর্থ হন।
আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০১-এ স্বতন্ত্র, এবং ২০০৮ ও ২০১৮-এ বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস শহীদের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে পরাজিত হন। স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে আওয়ামী লীগের জন্য সংরক্ষিত আসন হিসেবে বিবেচিত মৌলভীবাজার-৪ আসনে মো. মুহিবুর রহমানের পর কেউই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি। সেখানে মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিজস্ব ইমেজের দরুণ ভোট বাক্সে ঝড় তুলে আশার আলো সঞ্চার করেন। পরাজয়ের সব ধরনের সম্ভাবনা থাকার পরও এই ভদ্রলোক তিনবার লড়েন এবং বিজয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেন।
বিগত নির্বাচনগুলো পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যাবে, এখানে দলীয় প্রার্থীর চেয়ে ব্যক্তি মুজিবুর রহমান চৌধুরীই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং প্রাসঙ্গিক ছিলেন। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, বিগত সময়ে এখানে দলীয় প্রতীক নয়, স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হলে তিনি বিজয়ী হতেন এবং সামনের নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হলেও তিনি বিজয়ী হবেন। বরং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিগত সময়ে দলীয়ভাবে নির্বাচনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ভুলই করেননি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছেন।
পরিশেষে, সামনের নির্বাচনে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী যদি পরাজিত হয়ে যান, তাহলে কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল আসনে আগামীতে ডানঘরানার কোনো প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে, এবং বিরোধী শক্তি দীর্ঘসময়ের জন্য এই আসনটি কুক্ষিগত করে নেবে — এটাই আমার ব্যক্তিগত পর্যালোচনা।
লিখেছেন: খালিদ সাইফুল্লাহ্
এলএল.বি. অনার্স, এলএলএম
(যুক্তরাজ্য), কবি ও লেখক
সম্পাদক: তুহিন আহমদ জহির , কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার। মোবাইলঃ-০১৭১৫১৯৫৮১৩
London office:00447417450085 ইমেইল : tuhinpress77@gmail.com web- kbarta.sccmmp.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কমলগঞ্জ বার্তা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি