লন্ডনের বুকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে যে ক’টি নাম গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দবির উদ্দিন, যিনি সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন দবির চাচা নামে। তাঁর প্রকৃত নাম দবিরুল ইসলাম চৌধুরী। শতবর্ষ পেরিয়েও যিনি ছিলেন কর্মচঞ্চল, মানবতার প্রশ্নে আপসহীন এবং সমাজসেবায় অবিচল।
দবির চাচা শুধু একজন সমাজসেবকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবিক মূল্যবোধের এক জীবন্ত উদাহরণ। করোনাকালীন দুর্যোগে যখন মানুষ ঘরবন্দি, ভয় ও অনিশ্চয়তায় আচ্ছন্ন, তখন শতাধিক বছরের বৃদ্ধ বয়সেও তিনি লাঠি হাতে লন্ডনের রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে চ্যারিটির জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন। তাঁর সেই নিরলস পরিশ্রম হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং মানবতার পক্ষে এক অনন্য বার্তা পৌঁছে দেয়।
বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষায় তাঁর ভূমিকা ছিল অসামান্য। কবি হিসেবেও তিনি ছিলেন পরিচিত। তাঁর লেখনী ও চিন্তায় ফুটে উঠত দেশপ্রেম, মানবিকতা ও নৈতিকতার শিক্ষা। এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে OBE সম্মাননা এবং Freedom of the City of London লাভ করেন—যা একজন প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য বিরল সম্মান।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর মৃত্যু ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে দবির চাচা চলে গেলেও রেখে গেছেন অসংখ্য সেবার স্মৃতি, অনুপ্রেরণার গল্প এবং মানবতার দীপশিখা।
তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন—
বয়স কখনো মানুষের শক্তির মাপকাঠি নয়, বরং মনই মানুষের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করে।
দবির উদ্দিন স্মরণে আমরা কেবল শোকাহত নই, আমরা গর্বিত।
আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।
Developed By Radwan Web Service